কাশ্মীরি হাজী

এক মহিলা ক্বাবার গিলাফ ধরে খুব কাকুতি মিনতি করে কাদছে।দূর থেকে দাঁড়িয়ে এক দম্পতি এই দৃশ্য লক্ষ করলো। দম্পতি স্বামী স্ত্রী এই মহিলার কান্না দেখে ভাবলো হয়ত সে পথহারা না হয় সে তার ছামান হারিয়েছে আর না হয় তার বাড়ি ফিরে যাওয়ার মত সম্পদ নেই।
স্বামী তার স্ত্রী কে ঐ মহিলার কাছে পাঠালো।স্ত্রী ঐ মহিলার কাছে গেলো আর তার পাশে বসলো।আর খুব মমতার সাথে জিজ্ঞাসা করলোঃ
Continue reading

Advertisements

“মহা ভারত অশুদ্ধ”

আমাদের সমাজে বহুল প্রচলিত একটি কথা। প্রায় সময়ই কথায় কথায় কথাটি আমরা বলে কিংবা শুনে থাকি। এর প্রচলিত ব্যবহার অর্থ এমন যে- “কাজটি করার দ্বারা কি খুব বড় ক্ষতি/অন্যায় হয়ে যাবে?”

Continue reading

আমাদের সমাজে সালামের কয়েকটি ভুল প্রচলন রয়েছে…

আমাদের সমাজে সালামের কয়েকটি ভুল প্রচলন রয়েছে। আজকের আলোচনা সালামের ঐ সকল প্রচলিত ভুল নিয়েঃ

১. সালামের জবাব দিয়ে পুনরায় সালাম দেয়া।

প্রায়শই দেখা যায় একজন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে সালাম দেবার পর অপর ব্যক্তি সালামের উত্তর দিয়ে পুনরায় প্রথম ব্যক্তিকে সালাম দিয়ে থাকে, যা করা অনুচিত।


২. সালামের জবাব না দিয়ে পুনরায় সালাম দেয়া।

যখন কোন ব্যক্তি অপর ব্যক্তিকে সালাম দেয় তখন অপর ব্যক্তির উচিৎ প্রথম ব্যক্তিকে তার সালামের উত্তর দেয়া, এটি করা ওয়াজিব। সুতরাং উত্তর না দিয়ে তাকে পুনরায় সালাম দেয়া এটিও একটি প্রচলিত ভুল। 


৩. কাউকে সালাম দেয়ার পর “সালাম দিয়েছি” বলা।

সালাম দেয়ার পর যদি শ্রোতা সেই সালাম না শুনে থাকে, তাহলে তাকে পুনঃরায় সালাম দেয়া। সালাম দিয়েছি/দিয়েছিলাম এই কথাটি বলা উচিত নয়। এটিও সালামের একটি প্রচলিত ভুল।


৪. মনে মনে বা নিম্নস্বরে সালামের জবাব দেয়া।

অনেকেই সালামের উত্তর মনে মনে কিংবা শোনা যায় না এমন নিম্নস্বরে উচ্চারণ করেন। এতে করে সালাম দাতা তার সালামের উত্তর শুনতে পায় না। এটি করাও অনুচিত এবং এটিও সালামের একটি প্রচলিত ভুল। পক্ষান্তরে সালাম দাতা সালামের উত্তর না শুনে মনক্ষুন্ন হতে পারেন, কিংবা পরবর্তীতে উক্ত ব্যক্তিকে সালাম দেবার অনাগ্রহের সৃষ্টি হয় সালাম দাতার মনে।


৫. ‘অসময়ে’ সালাম দেয়া।

অনেকেই খাবার সময়, ইস্তেঞ্জার সময়, নামাজ আদায়রত অবস্থায় কিংবা কোরআন তেলাওয়াতের সময় গুলিতে সালাম দিয়ে থাকে। এই সময় গুলিতে সালাম দেয়া অনুচিত। কিন্তু এটিও প্রায়শই দেখা যায়, এবং এটিও সালামের একটি প্রচলিত ভুল বলেই গণ্য।


৬ সালামের উচ্চারণে ভুল করা।

অনেকেই সালাম দিতে গিয়ে সালামকে- সালাম আলাকুম, সালাম, আসলাম আলাইকুম সহ নানা ভাবে ভুল উচ্চারণে উচ্চারিত করে থাকে। এভাবে ভুল উচ্চারণে সালাম দিলে তা সালাম হিসেবে গন্য হবে না। এই ভুল উচ্চারণে সালাম দেয়াও সালামের একটি প্রচলিত ভুল। সুতরাং আমাদের উচিৎ আরবি মাখরাজের নিয়ম অনুযায়ী- “আসসালামু আলাইকুম” উচ্চারণের মাধ্যমেই সালাম দেয়া।

আমি সন্তুষ্ট…

আরব ধনীদের তালিকায় আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় বন্ধু। যিনি হিজরতের রাতে রাসূল সা. এর সাথী ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করেই রাসূল সা. বলে ছিলেন “ভয় করো না আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন”। যিনি তাবুক যুদ্ধে ইসলামের স্বার্থে তার পরিবারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ রাসূলের পায়ে রেখে ছিলেন।
এমন মহান ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির জীবন থেকে একটি ছোট গল্প তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ…।

তাবুক যুদ্ধের পরের কথা। মদীনায় মসজীদে নববীতে রাসূল সা. এর পাশেই আবু বকর উপবিষ্ট ছিলিন। গায়ে ছেঁড়া জামা। বুতামের যায়গাতে খেজুরের কাটা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাসূল সা. এর দরবারে ফিরিস্তা জীবরাঈল আ. এর আগমন। রাসূল সা. কে সালাম জানিয়ে রাসূলের কানে কানে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আবু বকর কে সালাম জানিয়েছেন।
রাসূল সা আবু বকর কে এই সংবাদ জানালেন আর আবু বকর সেই সালামের উত্তর দিলেন।
এরপর আবার জিবরাঈল বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ জানতে চাইছেন যে, আবু বকর কি আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট? Continue reading

গল্পে আঁকা জীবন…(পর্বঃ০২)

হারিকেন…
নতুনের ছোঁয়ায় পুরনো দিনের স্মৃতি মানুষের মনে আজ লুপ্ত প্রায়।  নতুন নতুন আবিষ্কৃত পণ্য-দ্রব্যে বর্তমান বাজার টইটুম্বুর। প্রজন্মের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে প্রায় ব্যক্তিত্বই ব্যস্ত আর তাইতো জীবন যাপনের জন্য কুড়ে ঘর, মাটির ঘর বা টিনের চৌচালা ছেড়ে আজ তারা বড় বড় দালান তৈরী করেছেন। কুপি, মোমবাতি, হারিকেন পরিবর্তে ঘরে ঘরে ইল্রক্ট্রিসিটি বা চার্জার লাইট এসেছে ইত্যাদি ইত্যাদি…
মানুষের এই পরিবর্তনের ফলে পুরনো সেই পণ্য-দ্রব্য বর্তমান বাজারে লুপ্ত প্রায়।কিন্তু প্রত্যেকটি পরিবারেই এমন কিছু মানুষ রয়েছে যাদের হৃদয়ে আজো সেই পুরনো জিনিসের প্রতি রয়েছে মায়া, মমতা, ভালোবাসা আর তাই আজো তারা তাদের সেই সকল পুরনো জিনেসগুলো খুব আগ্লে যত্ন করে রেখেছেন।
আজ এমনি একজন ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির আগ্লে রাখা প্রিয় জিনিসের একটি ছোট্ট গল্প তুলে ধরবো…(ইনশাল্লাহ) Continue reading

গল্পে আঁকা জীবন…(পর্বঃ০১)

মাস্টার আমজাদ আলী…
মাস্টার আমজাদ আলী সাহেবের কষ্টের সংসার। নুন আনতে তার পান্তা ফুঁড়ায়। মাস্টারই থেকে অবশর নিয়েছেন প্রায় ৬ বছর। পেনশন যা পেয়েছে তা দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এই বুড়ো বয়সে আর তার কুলোয় না। ছেলেটাও কোনও কাজ করে না। আমজাদ আলী সাহেব টুকিটাকি কাজ করে এখনোব্দি সংসার চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে ভাবে অন্যের সন্তান কে কেলিয়ে মানুষ করেছে ঠিকই কিন্তু নিজের সন্তান রয়ে গেছে অমানুষ।

মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দিতেই প্রতি দিনের ন্যায় মাস্টার সাহেব ঘুম থেকে উঠে গেলেন। নামায শেষ করে শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলেন। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসা করার মত অর্থ তার কাছে নেই, তাই সূর্য পুব আকাশে উকি দেয়ার আগেই ঘর থেকে বের হলেন শহরের সরকারী হসপিটালে উদ্দেশ্যে। Continue reading

রিযিক…

রিযিক শেষ হওয়ার আগে মৃত্যু কাউ কে স্পর্শ করবে না…

এক লোক কূপে পড়ে গিয়ে বাচার জন্য গলা ফাটিয়ে আত্ম-চিৎকার করতে লাগলো। গায়ের লোকেরা লোকটিকে বাঁচানোর জন্য ছুটে এলো কূপের কাছে। এক লোক রশি ফেলে লোকটিকে কূপ থেকে উঠলো। লোকটি কূপ থেকে বাহিরে এসে খুব হাঁপাচ্ছিল। দেখেই বুঝা যাচ্ছে লোকটি খুব ক্লান্ত। লোকটির এই ক্লান্ত শরীর দেখে এক দুধ বিক্রেতার মায়া হল। সে এক গ্লাস তাজা দুধ দিলো লোকটিকে। লোকটির দুধ খাওয়া শেষ হতেই গায়ের লোকেরা জানতে চাইলো যে, সে কিভাবে কূপে পড়েছে। Continue reading