আমি সন্তুষ্ট…

আরব ধনীদের তালিকায় আবু বকর রাযিয়াল্লাহু আনহু ছিলেন অন্যতম। তিনি ছিলেন রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের প্রিয় বন্ধু। যিনি হিজরতের রাতে রাসূল সা. এর সাথী ছিলেন। তাকে উদ্দেশ্য করেই রাসূল সা. বলে ছিলেন “ভয় করো না আল্লাহ আমাদের সাথে রয়েছেন”। যিনি তাবুক যুদ্ধে ইসলামের স্বার্থে তার পরিবারের ভার আল্লাহর উপর ছেড়ে দিয়ে নিজের সমস্ত ধন-সম্পদ রাসূলের পায়ে রেখে ছিলেন।
এমন মহান ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির জীবন থেকে একটি ছোট গল্প তুলে ধরবো ইনশাল্লাহ…।

তাবুক যুদ্ধের পরের কথা। মদীনায় মসজীদে নববীতে রাসূল সা. এর পাশেই আবু বকর উপবিষ্ট ছিলিন। গায়ে ছেঁড়া জামা। বুতামের যায়গাতে খেজুরের কাটা। ঠিক সেই মুহূর্তেই রাসূল সা. এর দরবারে ফিরিস্তা জীবরাঈল আ. এর আগমন। রাসূল সা. কে সালাম জানিয়ে রাসূলের কানে কানে বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ আবু বকর কে সালাম জানিয়েছেন।
রাসূল সা আবু বকর কে এই সংবাদ জানালেন আর আবু বকর সেই সালামের উত্তর দিলেন।
এরপর আবার জিবরাঈল বললেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! আল্লাহ জানতে চাইছেন যে, আবু বকর কি আল্লাহর উপর সন্তুষ্ট? Continue reading

গল্পে আঁকা জীবন…(পর্বঃ০২)

হারিকেন…
নতুনের ছোঁয়ায় পুরনো দিনের স্মৃতি মানুষের মনে আজ লুপ্ত প্রায়।  নতুন নতুন আবিষ্কৃত পণ্য-দ্রব্যে বর্তমান বাজার টইটুম্বুর। প্রজন্মের সাথে নিজেকে মিলিয়ে নিতে প্রায় ব্যক্তিত্বই ব্যস্ত আর তাইতো জীবন যাপনের জন্য কুড়ে ঘর, মাটির ঘর বা টিনের চৌচালা ছেড়ে আজ তারা বড় বড় দালান তৈরী করেছেন। কুপি, মোমবাতি, হারিকেন পরিবর্তে ঘরে ঘরে ইল্রক্ট্রিসিটি বা চার্জার লাইট এসেছে ইত্যাদি ইত্যাদি…
মানুষের এই পরিবর্তনের ফলে পুরনো সেই পণ্য-দ্রব্য বর্তমান বাজারে লুপ্ত প্রায়।কিন্তু প্রত্যেকটি পরিবারেই এমন কিছু মানুষ রয়েছে যাদের হৃদয়ে আজো সেই পুরনো জিনিসের প্রতি রয়েছে মায়া, মমতা, ভালোবাসা আর তাই আজো তারা তাদের সেই সকল পুরনো জিনেসগুলো খুব আগ্লে যত্ন করে রেখেছেন।
আজ এমনি একজন ব্যক্তিত্ববান ব্যক্তির আগ্লে রাখা প্রিয় জিনিসের একটি ছোট্ট গল্প তুলে ধরবো…(ইনশাল্লাহ) Continue reading

গল্পে আঁকা জীবন…(পর্বঃ০১)

মাস্টার আমজাদ আলী…
মাস্টার আমজাদ আলী সাহেবের কষ্টের সংসার। নুন আনতে তার পান্তা ফুঁড়ায়। মাস্টারই থেকে অবশর নিয়েছেন প্রায় ৬ বছর। পেনশন যা পেয়েছে তা দিয়ে মেয়ের বিয়ে দিয়েছেন। এই বুড়ো বয়সে আর তার কুলোয় না। ছেলেটাও কোনও কাজ করে না। আমজাদ আলী সাহেব টুকিটাকি কাজ করে এখনোব্দি সংসার চালাচ্ছে। মাঝে মাঝে নিজের সন্তানের দিকে তাকিয়ে ভাবে অন্যের সন্তান কে কেলিয়ে মানুষ করেছে ঠিকই কিন্তু নিজের সন্তান রয়ে গেছে অমানুষ।

মুয়াজ্জিন ফজরের আজান দিতেই প্রতি দিনের ন্যায় মাস্টার সাহেব ঘুম থেকে উঠে গেলেন। নামায শেষ করে শহরে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ঘর থেকে বের হলেন। ডাক্তারের কাছে যেতে হবে। প্রাইভেট হসপিটালে চিকিৎসা করার মত অর্থ তার কাছে নেই, তাই সূর্য পুব আকাশে উকি দেয়ার আগেই ঘর থেকে বের হলেন শহরের সরকারী হসপিটালে উদ্দেশ্যে। Continue reading

রিযিক…

রিযিক শেষ হওয়ার আগে মৃত্যু কাউ কে স্পর্শ করবে না…

এক লোক কূপে পড়ে গিয়ে বাচার জন্য গলা ফাটিয়ে আত্ম-চিৎকার করতে লাগলো। গায়ের লোকেরা লোকটিকে বাঁচানোর জন্য ছুটে এলো কূপের কাছে। এক লোক রশি ফেলে লোকটিকে কূপ থেকে উঠলো। লোকটি কূপ থেকে বাহিরে এসে খুব হাঁপাচ্ছিল। দেখেই বুঝা যাচ্ছে লোকটি খুব ক্লান্ত। লোকটির এই ক্লান্ত শরীর দেখে এক দুধ বিক্রেতার মায়া হল। সে এক গ্লাস তাজা দুধ দিলো লোকটিকে। লোকটির দুধ খাওয়া শেষ হতেই গায়ের লোকেরা জানতে চাইলো যে, সে কিভাবে কূপে পড়েছে। Continue reading

আল্লাহর ব্যবসা…

একবার এক ন্যায়পরায়ণ বাদশাহের দরবারে এক মহিলা এসে বললোঃ

-আল্লাহ কি জুলুমকারী নাকি ন্যায়বিচারক?
মহিলার এমন নালিশ শুনে রাজা রীতিমত অবাক হয়ে বললোঃ
-নাউজুবিল্লাহ! আল্লাহ সকলের প্রতি ন্যায়বিচার করেন। আল্লাহ কখনো তার বান্দার প্রতি জুলুম করেন না। মানুষ যে বিপদের সম্মুখীন হয় তা হল তার হাতের কামাই। তোমার কি হয়েছে সেটা খুলে বলো?

এবার মহিলা বললোঃ
-আমার স্বামী চারটা ছোট ছোট মেয়ে রেখে ইহলোক ত্যাগ করেছেন। আমি সুতা পাকিয়ে কাপড় বুনে সেগুলো বাজারে বিক্রি করে খেয়ে-পরে জীবন অতিবাহিত করছি।
প্রতিদিনের ন্যায় গতকাল বিকেলে সুতা আর কাপড় নিয়ে বাজারে যাচ্ছিলাম কিন্তু বাজারে আর যাওয়া হল না। রাস্তায় একদল পাখি উঁরে এসে সুতা আর কাপড় নিয়ে চলে গেলো। আজ বাসায় খাবারের কিছু নেই। কোন ব্যবস্থা না হলে বাচ্চারা না খেয়ে থাকবে। Continue reading

হিজাব…

ফ্রান্সে হিজাব নিষিদ্ধ হয়ার আগের ঘটনা।

প্যারিসের দ্যা গল বিমান বন্দরের পাশে অবস্থিত সুপার মার্কেটে একজন হিজাব পরিহিত যুবতী নিজের পছন্দমত দ্রব্যাদির দাম পরিশোধ করার জন্য ক্যাশ-কাউন্টারে গেল। ক্যাশে বসা ছিল আলজেরীয়ান এক যুবতী। ইসলাম ধর্মের অনুসারী হলেও, তার পোশাকআশাক ছিল একেবারেই খোলা মেলা।

আলজেরীয়ান যুবতী সেই হিজাব পরিহিত মহিলার দিকে তাচ্ছিল্যের দৃষ্টিতে তাকিয়ে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক ভাবে বললোঃ
“এমনিতেই ফ্রান্সে সমস্যার অন্ত নেই। তার সাথে আবার এখন হিজাবের সমস্যা।
নিজের মাতৃভূমি ছেড়ে এসেছি কেবল মাত্র টাকা উপার্জন করার জন্যে, নিজের ধর্ম আর ইতিহাসকে প্রদর্শনের জন্যে নয়। ধর্ম পালন করতে হয় তো নিজের দেশে গিয়ে ইচ্ছা মত ধর্ম পালন কর, এখানে নয়।” Continue reading

রাসূল সা. এর মুজিযা…(পর্বঃ০৮)

কিসরার মুকট যখন সুরাকার মাথায়…

মুসলমানদের দল দিন দিন বড় হয়ে চলেছে। আবু জাহল, উতবা,সায়বা সহ বড় বড় সর্দারগণ তেলে বেগুনে জ্বলছে। সকল কাফেররা একত্রিত হয়ে মুসলমানদের সাথে সকল সম্পর্ক ছিন্ন করার সিদ্ধান্ত নিলো। ক্রয় বিক্রয় সব বন্ধ করবে এমনকি বিবাহ বিচ্ছেদ করা হবে বলে ঠিক করলো। তাদের চিন্তা অনুযায়ী কাজও শুরু করল। মুসলমানদের কে সব দিক থেকে আটকে দিলো। অঙ্গীকারনামা লিখে ক্বাবা শরীফের ভিতরে টানিয়ে দিল। আর এই অবস্থা কে মুসলমানগণ খুশী মনে মেনে নিলেন। দু’বছর পর্যন্ত এমনই রইলেন। খুব কষ্টে দিন চলছিল মুসলমানদের। খাবারের অভাবে শেষমেশ ঘাস, গাছের পাতা পর্যন্ত খেতে লাগলো। মুসলমানগণ কেউ কেউ পালিয়ে রোম,পারস্য, বা মদিনায় চলে গেলো। অন্যদিকে মহান রাব্বুল আলামীনের ইচ্ছায় অঙ্গীকারনামায় কেবল আল্লাহর নাম ছাড়া আর কিছুই বাকী রইলো না। মুহাম্মাদ সা. এর নিকট ওহী প্রেরণ করলেন আর হিজরতের আদেশ দিলেন। মোহাম্মাদ সা. আবু বকর রা. কে সাথে নিয়ে মদিনার দিকে হিজরত শুরু করলেন। অন্যদিকে কাফেররা মোহাম্মাদ (সা.) কে হত্যা করতে ব্যর্থ হয়ে তার তালাশ শুরু করলেন। শেষমেশ খুঁজে না পেয়ে ঘোষণা করলো যে মোহাম্মাদ সা. এর ছিন্নমুন্ড এনে দিবে তাকে একশত উট পুরষ্কার দেয়া হবে। সেই সাথে বীরের সম্মান। এমন লোভনীয় প্রস্তাব কে-ই বা হাত ছাড়া করবে। তাই সকলে পাগলের মত খুঁজতে লাগলো।

সেই সকল লোকদের মধ্যে সুরাকা ছিল অন্যতম। তিনি ছিলেন একজন বুদ্ধিমান যোদ্ধা, গোত্রের সর্দার। তার বীরত্ব নিয়ে গোত্রে গোত্রে মুখ চর্চা হত। কাফেরদের এই ঘোষণার পর সুরাকা নিজেও মোহাম্মাদের খোঁজে লেগে গেলেন এবং সে সফলও হল।

মোহাম্মাদ সা. আর আবু বকর রা. ঘোড়ায় করে যাচ্ছিলো। সুরাকা তাদের কে পেয়ে গেলেন। আবু বকর ভীতসন্ত্রস্ত হলেন। রাসূল সা. বললেনঃ “কে? সুরাকা না-কি?” কিন্তু সুরাকা রাসূলের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার প্রয়োজন বোধ করলো না। সে পরিপূর্ণ হামলা করার প্রস্তুতি নিলো। হামলা করার আগেই অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন যে, তার ঘোড়া বালিতে দেবে যাচ্ছে। তীর নিক্ষেপ করার জন্য তূণীরে হাত রাখতেই হাতে এল সব থেকে বাজে তীরটি। সে বুঝে নিলো তার ভাগ্য খারাপ। সে রাসূল (সা.) এর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করলো। আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দিলেন। রাসূল (সা.) তাকে বললেনঃ “তুমি ঠিক এখানেই পাহাড়া দাও”।

সুরাকা সেদিন বুঝতে পারলো যে, মোহাম্মাদ (সা.) ইসলাম কে সারা বিশ্বের বুকে তুলে ধরবেন।

সুরাকা বুদ্ধি করে সে দিন রাসূল সা. এর থেকে নিরাপত্তার সনদ লিখে নিলেন। সনদ লিখার পর রাসূল (সা.) একটু সামনে গিয়ে আবার সুরাকার দিকে তাকিয়ে বললেনঃ
সুরাকা! সেদিন কেমন লাগবে যেদিন কিসরার মকুট তোমার মাথায় শোভা পাবে?

সুরাকা অবাক হয়ে বললেন-
– ইয়া মোহাম্মাদ! আপনি কি কিসরা ইবনে হরমুজের কথা বলছেন?

উত্তরে রাসূল (সা.) বললেন-
-নিঃসন্দেহে আমি পারস্যের সম্রাটের মুকুটের কথাই বলছি।

এই শুনে সুরকা বললেন-
-আমি সেদিনের অপেক্ষায় রইলাম।

হিজরতের এই ঘটনার পর কেটে গেলো আটটি বছর। অষ্টম হিজরি। মক্কা এখন মুসলমানদের হাতে। সুরাকা একদিন নিরাপত্তানামা টি নিয়ে রাসূল (সা.) এর দরবারে হাজির হল। নিরাপত্তানামাটি রাসূল (সা.) এর হাতে দিলেন। রাসূল (সা.) তা হাতে নিয়ে বললেনঃ “মনে হচ্ছে আজ প্রতিজ্ঞা পূরণ ও পাওনা পরিশোধের দিন”। এরপর রাসূল (সা.) কিছু কথা বললেন, যার ফলে সুরাকা নিজেকে ইসলামের আলো দ্বারা আলোকিত করলো।

এরপর কেটে গেলো অনেকগুলো বছর। মোহাম্মাদ (সা.) লোকান্তরিত হয়েছেন। এরপর খলিফা আবু বকর (রা.) তার অনুসরণ করে সেও লোকান্তরিত হয়েছেন। ইসলামী সাম্রাজ্যের খলীফা এখন ওমর ফারুক রা. । ইতি মধ্যে ইসলামের পরিধি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। মুসলমানগণ এখন পারস্য ও রোমদের বিরুদ্ধে বিজয়ের প্রহর গুনছে।

পারস্যের তৎকালীন শহর মাদায়ান। এইতো কিছুক্ষণ আগে পারস্যের রাজধানীতে সম্রাট কিসরার প্রাসাদে ঢুকে পড়েছে মুসলিম সেনাগণ। প্রাসাদে খুঁজে পেলো অমূল্য রত্ন। তবে সেই সকল রত্নের মধ্য সব থেকে আকর্ষণীয় বস্তু ছিল কিসরার পোশাক-আশাক আর তার মুকুট। মুসলিম সেনাপতির আদেশে তা মদিনায় পাঠানো হল।

ইতি মধ্যে মাদায়েন বিজয়ের সু-সংবাদ মদিনায় পৌঁছে গেছে। সেই সাথে যুদ্ধ লব্ধ সামগ্রী। সকল মুসলমানদের বিজয় সংবাদ দেয়ার পর ওমর (রা.) যুদ্ধ লব্ধ সামগ্রী মুসলমানদের মধ্যে বণ্টন করে দিচ্ছিলেন। যখন ওমর রা. এর হাতে কিসরার রাজ মুকুট, হাতের বাজু, কোমরবন্ধ এলো তখন তিনি সুরাকা কে ডাকলেন। সুরাকা সামনে আসতেই তিনি কিসরার মুকুট তার মাথায় পড়িয়ে দিলেন। সবাই বলছিল- “শুভ হোক, সভ্য হোক…”

এবার এক সাহাবী বললেনঃ রাসূল সা. এর হিজরতের কথা মনে পড়ে কি সুরাকা?
সুরাকার চোখে পানি ছল ছল করছিলো। রাসূল সা. এর প্রতিটি কথা, প্রতিটি শব্দ, এমন কি প্রতিটি অক্ষর আজো মনে আছে সুরাকার। কিছুই ভুলেন নি সুরাকা। কান পাতলে আজো যেন সে শুনতে পায় সেই অদ্ভুত অভয়বাণী- “কে? সুরাকা না-কি?”